বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
।। কালের খবর ডেস্ক।।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং সবুজ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্ব-পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের চাঁন্দগাও বয়াতির চরে জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী কুল ও লেবু গাছের চারা রোপণ করা সহ পরিবেশ রক্ষায় শ্রীনগর কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে “ফারুকজি ফুড গার্ডেন”-২ এর শুভ উদ্ভোধন করা হয়।
সোমবার (৮ জুন) বিকালে শ্রীনগরের বয়াতির চরে জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশনের আয়োজনে “ফারুকজি ফুড গার্ডেন”-২ এ (ফারুকজির ফলের বাগান) প্রধান অতিথি উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: নুরুল্লাহর বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি উপজেলা কৃষি অফিস, শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কৃষকদের মানোন্নয়নে আন্তরিকতা নিয়ে দ্বায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিনিয়র সাংবাদিক এম আই ফারুক মিয়াজী, বয়াতির চরের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: দেলোয়ার হোসেন দেলু সরদার, সমাজসেবক মো: সহিদুল ইসলাম ফকির, ফারুকজি ফুড গার্ডেনের দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তি কাজী আলমগীর সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি মো: নুরুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন, খরা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ। একটি গাছ মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, পরিবেশকে শীতল রাখে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
প্রধান অতিথি মো: নুরুল্লাহ আরো বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে হবে। একটি গাছ রোপণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেটিকে পরিচর্যা করে বড় করে তোলাও সমান জরুরি। গাছ বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, আর পরিবেশ বাঁচলে মানবসভ্যতা নিরাপদ থাকবে।’

জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নেতা এম আই ফারুক মিয়াজী বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর জনস্বার্থে সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সমাজের কল্যাণে এবং তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশন দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিতভাবে জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জার্নালিস্ট এম আই ফারুক মিয়াজী আরো বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ। আজ আমরা যে গাছ রোপণ করছি, তা আগামী দিনে ছায়া দেবে, ফল দেবে, পরিবেশকে সুরক্ষা দেবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করবে। তাই প্রত্যেক মানুষকে বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী বয়াতির চরের কৃষক বান্ধব মো:দেলোয়ার হোসেন দেলু সরদার বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা এলাকাবাসী নতুন করে সচেতন হয়েছি। আমরা নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার অঙ্গীকার করছি।’ তিনি পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সাংবাদিক ফারুক মিয়াজি দেশ প্রেমিক ও জনবান্ধব বলেই এই প্রত্যান্ত চরে এসে শত শত ফলজ গাছ লাগিয়ে বিশুদ্ধ ফলের বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সাংবাদিক ফারুকজির মতো সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাছ লাগানো ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।’
জার্নালিস্ট ফারুক নগর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় “ফারুকজি ফুড গার্ডেন”-২ এ (ফা়রুকজির ফলের বাগান) বৃক্ষরোপণের এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে
ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
পরিবেশবান্ধব এই কর্মসূচি তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।